বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তেলের তীব্র সংকট
বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তেলের তীব্র সংকট

বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তেলের তীব্র সংকট

বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তেলের তীব্র সংকট, অনিশ্চয়তা নিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সয়াবিন

তেল খুঁজছিলেন বেগুনবাড়ির বাসিন্দা হাজেরা খাতুন। কিন্তু বাজারের বড় কোনো মুদি দোকানে

সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ঈদের দিন কী রান্না করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন এই বৃদ্ধা।

নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন রাজধানীর ক্রেতারা। আগামীকাল ঈদ, কিন্তু ঈদের স্বাদের অন্যতম উপাদান

বোতলজাত সয়াবিন তেল যেন ঈদের মতো বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। তবে সংকট শুধু আজকের নয়,

এক সপ্তাহ ধরে বাজারে তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় সম্পূর্ণ অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের দোকানিদের অভিযোগ, সয়াবিন তেল নিয়ে বিড়াল-ইঁদুর খেলা শুরু করেছে সরবরাহকারীরা।

সোমবার দুপুর ১২টায় বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে নেই সয়াবিন তেল।

 

বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তেলের তীব্র সংকট

অমাবস্যার চাঁদের মতো হয়ে গেছে তেল। কিছু দোকানে কয়েক লিটার তেলের বোতল পাওয়া গেছে, তবে শর্ত হল তেল নিলে সবসময় সঙ্গে অন্য কিছু নিয়ে যেতে হবে।কারওয়ান বাজার সোনালী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা চলছে। গত সাত দিনে প্রায় তিন দিন তেল সরবরাহ করা হয়েছে। সরবরাহকারীরাও পাইকারি দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ১৫৯ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে দোকানিদের। এ কারণে দোকানিরা সব সময় ক্রেতাদের তেলের সঙ্গে অন্য নিতে বাধ্য করছেন।আরেক দোকানদার জানান, রোববার বিকেলে তিনি শেষ দুই কার্টন সয়াবিন তেল পেয়েছেন। আসলাম। তিনি বলেন, গতকাল দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেট এলে হঠাৎ দুই কার্টন তেল পান। সেই তেল বিক্রি হতে ১০ মিনিটও সময় লাগেনি।

রাজধানীর মধুবাগের আলী জেনারেল

স্টোরের মালিক মো. আলী জানান, তার দোকানে আজ মাত্র এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে। কয়েকদিন ধরে সরবরাহ খুবই কম। তবে খোলা সয়াবিনই যথেষ্ট বলে জানান তিনি।দেশের ভোজ্যতেলের বাজার মূলত আমদানিনির্ভর। এ কারণে তেলের দাম অনেকটাই নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর। অর্থনীতিবিদরা অবশ্য অভিযোগ করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণ দেশীয় বাজারের দাম বাড়ার চেয়ে স্থানীয় বাজারের কারসাজি বেশি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দাম ওঠানামা শুরু হয়। আর্জেন্টিনায় রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল রপ্তানি স্থগিত ঘোষণার পর দাম বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। দেশে দাম না পেয়ে আমদানিও কমিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের পর দাম বাড়বে এমন ভাবনা থেকেই মজুতদারির প্রবণতাও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দেয়

গত দুই বছরের তুলনায় মহামারীর প্রভাব অনেক কম। ফলে এ বছর মানুষ খোলা অস্ত্র নিয়েই ঈদ উদযাপন করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশে তা নয় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলের বাজারগুলি সাধারণত চাঁদে ভিড় করে, তবে এবার যুক্তরাজ্যের লিডসে নয়।লিডসের ব্যবসায়ী আবিদ হোসেন বিবিসিকে বলেছেন: পবিত্র রমজান মাসে মানুষের বেশি খরচ করার কথা থাকলেও এ বছর দেখা গেছে মানুষ তাদের খরচ কমিয়ে দিয়েছে। ‘সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। আবিদ হোসেন জানান, মসলা থেকে শুরু করে মাংস, মধু, খেজুর সব কিছুর দাম বাড়ছে। অর্থাৎ ইফতার ও সাহরির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম ছিল অতিরিক্ত। যে কারণে এ বছর মানুষ বেশি পণ্য কিনছেন না।এদিকে চ্যারিটি ইসলামিক রিলিফ ইউকে বিবিসিকে জানিয়েছে যে ব্রিটেনের অনেক পরিবার এই রমজানে শেষ করার জন্য লড়াই করছে।

 

 

About admin

Check Also

অবৈধ অর্থে দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বিএনপি তথ্যমন্ত্রী

অবৈধ অর্থে দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বিএনপি তথ্যমন্ত্রী

অবৈধ অর্থে দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বিএনপি তথ্যমন্ত্রী, এদেশে বিএনপির রাজনীতি করার অধিকার আছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.