ব্যতিক্রম ছিলেন মুহিত যেখানে
ব্যতিক্রম ছিলেন মুহিত যেখানে

ব্যতিক্রম ছিলেন মুহিত যেখানে

ব্যতিক্রম ছিলেন মুহিত যেখানে, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৬১ মিলিয়ন

মার্কিন ডলার চুরি হয়। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান

পদত্যাগ করেন। রিজার্ভ চুরির আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও গভর্নর আতিউর রহমানের

মধ্যে উত্তেজনা ছিল।এ প্রসঙ্গে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান অর্থমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেওয়া যায় কি

না জানতে চান। ভাইয়ের সঙ্গে মুহিতের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের কারণে

আমরা প্রতি বছর বাজেটের আগে তার সাক্ষাৎকার নিতাম। প্রথম আলোর পাঠকদের সামনে বাজেটে দেশের মানুষের

জন্য সুখবর ঘোষণার দাবি জানাতেন তিনি। কখনো আমাদের ইচ্ছানুযায়ী কিছু বলতেন, কখনো

হো হো করে হেসে বলতেন, ‘কাল দেখা হবে।’মুহিত ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলাম। তিনি একমত. আমার সহকর্মী

ফখরুল ইসলাম এবং আমি হেয়ার রোডে তার তৎকালীন সরকারি বাড়িতে গিয়ে দেখালাম।

 

ব্যতিক্রম ছিলেন মুহিত যেখানে

মুহিত ভাই এর আগে তার সহকারীকে বলেছিলেন। সেদিন তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের বাইরেও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।পরদিন অর্থমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারে তোলপাড় শুরু হয়। তিনি বিনা দ্বিধায় বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত। দুদক ও এনবিআর কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও কর্মকর্তাদের রিজার্ভ চুরির অভিযোগ তুলেছেন। এসব সরকার অনেক সহজে নিতে পারেনি। নানা গুঞ্জন শোনা যায়। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল ছিল যে অর্থমন্ত্রী সাক্ষাৎকার নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থী বক্তব্য দেন। তবে সাক্ষাৎকারে দেওয়া কোনো বক্তব্য তিনি অস্বীকার করেননি।এর পরও দু-একটি অনুষ্ঠানে মুহিত ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে। মুখে হাসি দিয়ে কুশলকে জানতে চাইল। কখনো সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। তার শারীরিক অবস্থারও খোঁজখবর নিলাম।

কয়েকবার তার বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি

নিলেও শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি। এদিকে শুক্রবার মধ্যরাতে তার মৃত্যুর খবর আসে।গুলশানের কামাল আতাতুর্ক রোডে তার লাল ইটের দোতলা বাড়িতে (বর্তমানে বহুতল ভবন) কতবার গিয়েছি তার কোনো হিসাব নেই। আমিও একাধিকবার তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। মুহিত ভাই ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের সেরা ছাত্র।পরে অর্থনীতিতে ভাটা পড়ে। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এসবের বাইরে সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর মমতা অনুভব করতে পারতাম বাড়িতে গিয়ে।অর্থনীতি ও গবেষণার চেয়ে সাহিত্যের বই তার টেবিলে বেশি ছিল। তাঁর দেওয়া অক্টাভিও পাজের নির্বাচিত কবিতা বইটি এখনও আমার বুকশেল্ফে তাঁর স্নেহ এবং স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়।মুহিত ভাইকে নিয়ে অনেক স্মৃতি, অনেক ঘটনা। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছি। মুহিত ভাইকে পরিচয় করিয়ে দেন সংবাদ সম্পাদক বজলুর রহমান।

তার সাথে মুহিত ভাইয়ের বাসায় যেতাম

তারা রাজনীতি, অর্থনীতি, পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতেন। লেখক হিসেবে মুহিত ভাই ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। তিনি যা বলার প্রয়োজন মনে করেছিলেন তা নিয়ে লিখেছেন।মাঝে মাঝে আমরা তার সাক্ষাৎকার নিতাম। আমি প্রথম আলোতে আসার পরও মুহিত ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অটুট ছিল। তার জন্মদিনে ২৫ জানুয়ারি ২০১০, আমি প্রথম আলোতে লিখেছিলাম, ‘শ্রোতার মানুষ’। মন্ত্রী হওয়ার আগে ঢাকার যেকোনো অনুষ্ঠানে তাকে বক্তা হিসেবে নয়, দর্শক হিসেবে পেতাম। একুশে বইমেলায় নিয়মিত যেতেন। বই কিনতেন।যেকোনো নতুন উদ্যোগের জন্য মুহিত ভাইয়ের উৎসাহ ছিল অপরিসীম। সেই উৎসাহ থেকেই তিনি গণফোরামে যোগ দেন। এই উদ্দীপনা থেকেই কেউ পরিবেশ আন্দোলনে যুক্ত হয়। দেশ ও সমাজ নিয়ে তার নিজস্ব ভাবনা ছিল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেই ধারণা পুরোপুরি উপলব্ধি করেছেন বলে মনে হয় না।মুহিত ভাই প্রবলভাবে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ চেয়েছিলেন।

 

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.